বাংলাদেশে চালু নতুন নোট, বাংলাদেশের মুদ্রা নীতিতে ঘটল বড় পরিবর্তন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ।
বাংলাদেশের মুদ্রা নীতিতে ঘটেছে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ছেড়েছে নতুন ডিজাইনের টাকা, যেখানে আর দেখা যাচ্ছে না জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিচিত প্রতিকৃতি। নতুন এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
প্রাথমিকভাবে তিনটি মূল্যমান—৳২০, ৳৫০ ও ৳১০০০—এর নতুন নোট চালু করা হয়েছে। এই নোটগুলোতে শেখ মুজিবের ছবি বাদ দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। নতুন মুদ্রায় ব্যবহার করা হয়েছে কান্তজিউ মন্দির, আহসান মঞ্জিল এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো “মানবচিত্র” বাদ দিয়ে দেশের ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা। এ ছাড়া জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও একই নকশায় বাজারে ছাড়া হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র আকার ধারণ করে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারের বিদায়ের পরপরই নতুন মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন, এবং তাতে শেখ মুজিবের ছবি বাদ যাওয়াকে কেউ কেউ ‘ইতিহাস মুছে ফেলার ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই পদক্ষেপকে ‘অরাজনৈতিক’ ও ‘সংস্কৃতিমূলক’ বলেই দাবি করছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আশ্বস্ত করেছে, আগের নোট ও কয়েন যেগুলিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি রয়েছে, সেগুলি এখনও বৈধ এবং লেনদেনে ব্যবহার করা যাবে।
এখন প্রশ্ন, সাধারণ জনগণ এই পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
প্রশ্নোত্তর: নতুন নোট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. কবে থেকে নতুন ডিজাইনের নোট চালু হয়েছে?
→ ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে।
২. কোন কোন মূল্যমানের নোটে পরিবর্তন হয়েছে?
→ আপাতত ৳২০, ৳৫০ ও ৳১০০০।
৩. নতুন নোটে কী ছবি রয়েছে?
→ কান্তজিউ মন্দির, আহসান মঞ্জিল এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
৪. পুরনো নোট কি এখনও বৈধ?
→ হ্যাঁ, পুরনো নোট এবং কয়েন এখনো বৈধ।
৫. কেন শেখ মুজিবের ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে?
→ সরকারের ভাষ্য, মানবচিত্র বাদ দিয়ে দেশের ঐতিহ্য ও প্রকৃতি তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য।