হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল নয়ডা—কিন্তু এর পেছনে কি ছিল সুপরিকল্পিত ডিজিটাল ছক? তদন্তে উঠে আসা তথ্য এখন নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
পুলিশের দাবি, নয়ডা শ্রমিক বিক্ষোভ কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং এক রাতের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গোটা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। বিভিন্ন নামে একাধিক WhatsApp গ্রুপ তৈরি করে শ্রমিকদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। QR কোড ব্যবহার করে হাজার হাজার শ্রমিককে ওই গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘Workers Movement’ নামে একটি গ্রুপ বিশেষভাবে নজরে এসেছে। অভিযোগ, এই গ্রুপগুলির মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো হয়, যাতে বিক্ষোভ দ্রুত চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। শুধু শ্রমিকদেরই নয়, বিভিন্ন সংগঠনের কাছেও বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল রাতারাতি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই বিক্ষোভে বহু ‘বহিরাগত’ অংশ নিয়েছিল। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার পর আশপাশের জেলা ও সীমান্ত এলাকা থেকে লোকজন ঢুকে পড়ে এবং অশান্তি আরও ছড়িয়ে দেয়। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সোমবার নয়ডার একাধিক এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমেছিলেন বলে অনুমান। দিল্লি-নয়ডা সংযোগকারী বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবারও সেক্টর ৮০-সহ একাধিক এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনও পর্যন্ত ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

