বাংলার সংস্কৃতি ও শিক্ষার হারানো গৌরব কি ফেরাতে চলেছে নতুন সরকার? রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার সেই বার্তাই দিল বিজেপি নেতৃত্ব। কলকাতার কনভেনশন সেন্টার থেকে অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
বিপুল জনসমর্থনের পর পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে বাংলার সংস্কৃতি, শিক্ষা ও সাহিত্যকে সামনে রেখেই মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার দলের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভারতের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার অন্যতম কেন্দ্র বাংলা। সেই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করবে নতুন বিজেপি সরকার।
অমিত শাহ এদিন ঘোষণা করেন, পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউটের আদলে বাংলায় থিয়েটার নিয়ে বিশ্বমানের উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটার শিল্পের উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতের হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতেও সরকার উদ্যোগী হবে বলে আশ্বাস দেন শাহ।
তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দলের নেতাদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ বিজেপির উপর যে আস্থা রেখেছেন, তা যেন কোনওভাবেই নষ্ট না হয়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের সর্বস্ব উজাড় করে কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে, ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসা শুভেন্দু অধিকারীও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মোদিজির গ্যারান্টি এবার বাংলার মানুষের জন্য বাস্তবে রূপ পাবে।” শুভেন্দুর দাবি, নতুন সরকার বাংলার সাংস্কৃতিক চেতনা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় একযোগে কাজ করবে।
স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি’ মন্ত্রের উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, বাংলাকে নতুনভাবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি ৪৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, ইতিবাচক উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে আগামী দিনে সেই সমর্থন ৬০ শতাংশেরও বেশি জায়গায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

