বাংলার রাজনীতিতে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশাল জনসমাগম, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত হল এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান।
২৫শে বৈশাখের বিশেষ দিনে শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেখা যায় এক ভিন্ন আবহ। মঞ্চে উঠে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের মুহূর্তে ব্রিগেডে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুও। এছাড়াও দেখা যায় চিরাগ পাসোয়ান, নীতীন নবীন এবং সুনেত্রা পাওয়ারকে।
শুভেন্দু অধিকারীর পর শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিকরা। যদিও কারও দপ্তর নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে শুভেন্দুর। এরপর তিনি কালীঘাট মন্দিরেও যেতে পারেন। পাশাপাশি মহাকরণেও তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রায় পাঁচ দশক পর জেলা থেকে উঠে আসা কোনও নেতা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় এই শপথ অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আগামী সোমবার রাজভবনে বাকি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিধানসভার অ্যানেক্সে হতে পারে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক।
অন্যদিকে, বুধবার বাকি বিধায়কদের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর এবার প্রশাসনিক কাজ কত দ্রুত শুরু হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

