মোথাবাড়ি কাণ্ডে বড় মোড়—তদন্তে সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আর তাতেই নড়েচড়ে বসল শীর্ষ আদালত।
মালদহের কালিয়াচকের মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সুপ্রিম কোর্টে তাদের তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তদন্তকারীরা জানায়, ঘটনার মূল চক্রান্তকারীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই রিপোর্ট জমা পড়ার পরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলে আদালত। একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—ঘটনার তদন্ত যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
ঘটনাটি গুরুতর মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতে ১২টি এফআইআর দায়ের করেছে এনআইএ।
তদন্তে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন এক আইএসএফ নেতা এবং দুই কংগ্রেস নেতা। এই গ্রেফতারি নিয়েই রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, রাজ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরেও একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে বেশ কয়েকজন আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মোথাবাড়ি কাণ্ড এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং তা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরেও বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

