একটি ঘর, কিছু ছড়িয়ে থাকা জিনিস আর অগণিত স্মৃতি—সেখানেই যেন এখনও জীবন্ত রাহুল।
দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির। এই আকস্মিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলার বিনোদন জগতে।
তার স্মৃতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে যে হোটেলে তিনি থাকছিলেন, সেই হোটেলের ‘৪০০৫’ নম্বর কক্ষটি আর পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রুমে এখনও পড়ে রয়েছে তার ব্যবহৃত নানা জিনিস—বিছানায় রাখা হ্যাঙ্গার, চায়ের কাপ, টি-ব্যাগ—সবকিছু যেন অপেক্ষা করছে তার ফিরে আসার।
হোটেলের মালিক জানান, রাহুল ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক এবং সহজ-সরল মানুষ। খাবারের বিষয়েও তিনি নিজেই যোগাযোগ করতেন। মৃত্যুর আগের দিন তিনি খিচুড়ি, বেগুন ভাজা ও আলু সেদ্ধ খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি পরবর্তীতে এসে মাছ খাওয়ার কথাও বলেছিলেন।
এই আকস্মিক মৃত্যু মানতে পারছেন না তার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা। বাংলাদেশের তারকারাও শোক প্রকাশ করেছেন।
রাহুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জানান, সমুদ্রের জোয়ার ও গভীরতা বোঝার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। সব চেষ্টা করেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এখন সেই গাড়ি নিয়েই ফিরতে হচ্ছে কলকাতায়, যেখানে এখনও লেখা রয়েছে অভিনেতার নাম।
গত রবিবার শুটিং চলাকালে তালসারি সৈকতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করা হয়, জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই অভিনেতা তার অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে ভক্তদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

