একটা প্রশ্ন এখন ফুটবল বিশ্বে ঘুরপাক খাচ্ছে—ইতালি কি এবার সত্যিই বিশ্বকাপে ফিরতে পারবে?
দীর্ঘ ১২ বছরের হতাশা ভাঙার লক্ষ্যে ইতালি এবার নামছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে। টানা দুই বিশ্বকাপে না খেলার যন্ত্রণা এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে আজ্জুরিদের। তাই এবার তাদের লক্ষ্য একটাই—যেভাবেই হোক মূলপর্বে জায়গা নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার বারগামোতে প্লে-অফ সেমিফাইনালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইতালি। এই ম্যাচটি তাদের জন্য ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হারলেই আবারও বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ।
নতুন কোচ জেনারো গাত্তুসোর অধীনে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে দলে। আগের কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তির বিদায়ের পর দলকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তবে গ্রুপ পর্বে নরওয়ের কাছে বড় হার দেখিয়েছে ইতালির দুর্বলতা এখনো কাটেনি।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইতালির পারফরম্যান্স ধীরে ধীরে নেমে গেছে। ২০১০ ও ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি দলটি। ফলে এবারের বিশ্বকাপ মিস করলে সেটি ইতালির ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
গাত্তুসো ম্যাচের আগে বলেন, দলকে বাড়তি চাপ না দিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে চান তিনি। তবে ইনজুরি সমস্যা তাকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড় অনিশ্চিত থাকায় দল গঠনেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মিডফিল্ডার সান্দ্রো টোনালির চোট বড় উদ্বেগের কারণ। এছাড়া ফেডেরিকো চিয়েসা দল থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে স্কামাক্কা, বাস্তোনি ও মানচিনির ফিটনেস নিয়েও রয়েছে সংশয়।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে হারাতে পারলে ফাইনালে ইতালির সামনে অপেক্ষা করবে ওয়েলস বা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। তাই প্রতিটি ম্যাচই এখন তাদের জন্য ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ইতালির সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবার বিশ্বমঞ্চে ফেরা।

