মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইরানের সরকার পতন নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সরকার পতন পুরোপুরি দেশটির জনগণের ওপর নির্ভর করছে। ইসরায়েলের কাজ হলো জনগণকে সেই পরিবর্তনের জন্য উৎসাহিত করা।
সোমবার ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে ইসরায়েলের ন্যাশনাল হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টারে যান নেতানিয়াহু। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরানের সাধারণ মানুষ যদি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।
নেতানিয়াহুর মতে, গত কয়েক দিনে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি ইরানের জনগণ শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনে সফল হয়, তাহলে সেই সাফল্যের অংশীদার হিসেবে ইসরায়েলও থাকবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা হুমকি কমে যেতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলেছিল। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১,৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল সামরিক নয়— রাজনৈতিকভাবেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

