দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের তাড়াহুড়ো এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বহু প্রবাসী ও কোটিপতি বাসিন্দা।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে দুবাইয়ের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয় এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন।
এই পরিস্থিতিতে দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের তাড়াহুড়ো আরও বেড়ে যায়। বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তাদের ভরসা এখন প্রাইভেট জেট। কিন্তু চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনেকে চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ওমানের মাস্কাটে পৌঁছাচ্ছেন। সেখানে বিমানবন্দর চালু থাকলেও যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হচ্ছে। বুকিং সাইটগুলো জানাচ্ছে, ইউরোপমুখী বেশিরভাগ ফ্লাইট সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বুকড।
মাস্কাটভিত্তিক একটি প্রাইভেট জেট ব্রোকারেজ জানিয়েছে, ছোট আকারের নেক্সট্যান্ট জেটে ইস্তাম্বুল যেতে এখন প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো গুনতে হচ্ছে, যা স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় তিনগুণ। অন্যদিকে রিয়াদ থেকে ইউরোপ যেতে ব্যক্তিগত জেটের খরচ ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
শুধু ভাড়া নয়, বিমা জটিলতা ও মালিকদের আপত্তির কারণে অনেক অপারেটর ফ্লাইট পরিচালনায় অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে বাজারে জেটের সরবরাহ আরও কমে গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই ও আবুধাবিতে বসবাসরত অনেক ধনকুবের বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ সৌদি আরবে ১০ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ইউরোপমুখী প্রাইভেট জেট ভাড়া করার পরিকল্পনাও করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুবাই থেকে নিরাপদে বের হওয়া এখন ধনীদের জন্যও সহজ নয়। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

