মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে এবার সরাসরি ইউরোপীয় দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল তেহরান।
তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হয়, তা সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর কথায়, “এ ধরনের পদক্ষেপকে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ হিসেবে দেখা হবে।”
সম্প্রতি জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এরপরই তেহরানের এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে যদি ইউরোপ সরাসরি জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি স্থানে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে। যদিও হতাহতের এই সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর বহু এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রতিদিনই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

