বিশ্ব রাজনীতির আকাশে যখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে, ঠিক তখনই USS Gerald Ford-এর ইসরায়েলের দিকে অগ্রযাত্রা নতুন বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ রণতরী USS Gerald Ford বৃহস্পতিবার গ্রিস থেকে ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে এই অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরীকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কয়েকদিন আগে এটি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। সেখান থেকে সরাসরি ইসরায়েলের দিকে যাত্রা শুরু করে।
এর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে আরেক মার্কিন রণতরী USS Abraham Lincoln। তার সঙ্গে রয়েছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক নৌযান। ফলে সমুদ্রপথে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু সমুদ্র নয়, আকাশপথেও শক্তি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাজ্য থেকে অন্তত ১২টি এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, উত্তেজনার মাঝেই শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যস্থতায় রয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও তার জামাতা জের্ড ক্রুসনার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এড়াতে এটাই হতে পারে শেষ কূটনৈতিক সুযোগ। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, একটি সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে এবং দুই দেশ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এখন তাই একই সঙ্গে চলছে শক্তি প্রদর্শন ও কূটনৈতিক তৎপরতা—পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।

