শীত এলেই হাত–পায়ের শুষ্কতা যেন নিত্যসঙ্গী। হঠাৎ করেই গোড়ালি ফাটা, ত্বকে টানটান ভাব বা চুলকানি শুরু হয়। দিনের ব্যস্ততায় লোশন মাখা হলেও, আসল যত্নের সময়টা কিন্তু রাতেই। প্রশ্ন একটাই— রাতে হাতে ও পায়ে তেল মাখবেন, নাকি লোশনই যথেষ্ট?
রাতে তেল মাখার বড় সুবিধা হলো, এটি ত্বকের উপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষার স্তর তৈরি করে। এই স্তর রাতভর ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নারিকেল তেল, সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল খুব শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। যাদের গোড়ালি শক্ত হয়ে যায় বা ত্বক ফেটে যায়, তাদের ক্ষেত্রে রাতে তেল ভালো কাজ করে।
তবে তেলের সীমাবদ্ধতাও আছে। তেল নিজে থেকে ত্বকে জল যোগ করে না, শুধু আর্দ্রতাকে আটকে রাখে। তাই ত্বক খুব ডিহাইড্রেটেড হলে শুধু তেল মাখলে পুরো আরাম নাও মিলতে পারে।
এখানেই লোশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের লোশনে থাকে জল ও ময়েশ্চার ধরে রাখার উপাদান। হালকা বা স্বাভাবিক শুষ্ক ত্বকে রাতে লোশনই যথেষ্ট। যাদের তেলের আঠালো ভাব পছন্দ নয়, তারা লোশন ব্যবহার করে আরাম পাবেন।
সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তেল ও লোশন একসঙ্গে ব্যবহার করা। স্নানের পর বা ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই আগে লোশন লাগান, এরপর তার ওপর অল্প তেল মাখুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে।
ঘুমানোর অন্তত ২০–৩০ মিনিট আগে তেল বা লোশন ব্যবহার করলে অস্বস্তি কম হয়। চাইলে পাতলা কটন মোজা পরেও ঘুমাতে পারেন, এতে গোড়ালির যত্ন আরও ভালো হয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
রাতে শুধু তেল মাখলে কি ত্বক ভালো থাকবে?
খুব শুষ্ক ত্বকে উপকার মিলবে, তবে আর্দ্রতার ঘাটতি থাকলে লোশন দরকার।লোশন কি শীতে যথেষ্ট?
হালকা শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশিরভাগ সময় লোশনই যথেষ্ট।তেল ও লোশন একসঙ্গে ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি।ঘুমানোর ঠিক আগে তেল লাগালে সমস্যা হয়?
হতে পারে, তাই ২০–৩০ মিনিট আগে ব্যবহার ভালো।কোন তেল শীতে বেশি উপকারী?
নারিকেল, অলিভ বা সরিষার তেল শীতে বেশি কার্যকর।

