হঠাৎ করেই কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত—পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বে এবার সরাসরি নজর রাখবেন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকেরা। শুক্রবার সকালে এই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর শুনানি কেন্দ্রগুলিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রের গ্রুপ বি বা তার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকেও এই আধিকারিকদের নিয়োগ করা হতে পারে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অধীনেই তাঁরা কাজ করবেন।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর কমিশনের কাছে মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগের অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল। শুক্রবার সেই প্রস্তাবেই সবুজ সঙ্কেত দিল নির্বাচন কমিশন। শুনানি পর্বে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিটি মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে ৩০ হাজার টাকা সাম্মানিক দেওয়া হবে।
মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের মূল কাজ হবে শুনানির সময় নির্বাচনী আধিকারিক (ইআরও) ও সহকারী নির্বাচনী আধিকারিকদের (এইআরও) কার্যক্রমে নজর রাখা। এনুমারেশন ফর্ম, ভোটারদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র এবং অন্যান্য নথি যাচাইয়ের দায়িত্বও তাঁদের কাঁধে থাকবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি চিহ্নিত করা ও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণেও তাঁরা সহযোগিতা করবেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেবে সিইও দফতর, আর নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করবেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকেরা।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ১১ ডিসেম্বর এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। তাতে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটার ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রয়েছেন, যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের সংযোগ দেখাতে পারেননি। তাঁদের সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। এ ছাড়াও সন্দেহজনক তথ্য থাকা আরও বহু ভোটারকে নোটিস পাঠানো হবে। শুক্রবার থেকেই শুনানির নোটিস পাঠানো শুরু হওয়ার কথা।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: এসআইআর কী?
উত্তর: এসআইআর হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া।
প্রশ্ন ২: মাইক্রো অবজ়ার্ভার কারা হবেন?
উত্তর: মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি গ্রুপ বি বা তার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা।
প্রশ্ন ৩: তাঁদের প্রধান দায়িত্ব কী?
উত্তর: শুনানি পর্বে নথি যাচাই ও নির্বাচনী আধিকারিকদের কাজে নজরদারি।
প্রশ্ন ৪: কেন এত বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে?
উত্তর: খসড়া তালিকায় বহু নাম বাদ পড়া ও তথ্যের অসঙ্গতির কারণে।
প্রশ্ন ৫: মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা কী পারিশ্রমিক পাবেন?
উত্তর: শুনানি পর্বের জন্য তাঁরা ৩০ হাজার টাকা সাম্মানিক পাবেন।

