হঠাৎ করেই বাড়ল তৎপরতা—ভোটের আগে রাজ্যে সক্রিয় হয়ে উঠল নির্বাচন কমিশন।
সোমবার থেকে তিন দিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সড়কপথে বীরভূমের উদ্দেশে রওনা দেন। জানা গিয়েছে, জেলাশাসক দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তিনি।
এই সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও দু’জন আধিকারিক। পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। সন্ধ্যায় তাঁর নেতৃত্বাধীন দল মুর্শিদাবাদে যাবে এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করবে। মঙ্গলবার সফরসূচিতে রয়েছে নদিয়া জেলা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আর একটি দল উত্তরবঙ্গে পৌঁছেছে। ডেপুটি ডিরেক্টর অপূর্বকুমার সিংহের নেতৃত্বে ওই দল আলিপুরদুয়ার থেকে সফর শুরু করবে। রাজাভাতখাওয়া সহ একাধিক এলাকায় বুথ পরিদর্শন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়েও যাবে তারা। জানা গিয়েছে, এই দলটি প্রায় পাঁচ দিন রাজ্যে থাকবে।
দুই দলের মূল উদ্দেশ্য হল ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় পর্যালোচনা করা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বেশ কয়েকজন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। নতুন নিয়োগও করা হয়েছে দ্রুত। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অপসারিত আধিকারিকদের আপাতত নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত করা যাবে না।
এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাসকদল ইতিমধ্যেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই বদল করা হয়েছে, যা পূর্বের প্রথার বিরোধী।

