হঠাৎ মধ্যরাতের অভিযানে বদলে গেল ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক মানচিত্র। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন—এমনই কড়া মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করেছে। মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। একই সঙ্গে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো—কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হস্তক্ষেপের যুক্তি দেখালেও, একতরফা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায় না বলে মন্তব্য করা হয়।
গত ৩ জানুয়ারি রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তার বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে বিচার চলছে। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, এই হস্তক্ষেপের ফলে দেশটিতে সামরিকীকরণ ও অস্থিরতা আরও বাড়বে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. জাতিসংঘ কেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের বিরোধিতা করেছে?
কারণ এটি আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে বলে জাতিসংঘ মনে করছে।
২. অভিযানে কাকে আটক করা হয়েছে?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে।
৩. জাতিসংঘের প্রধান উদ্বেগ কী?
দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ও অতিরিক্ত সামরিকীকরণ।
৪. যুক্তরাষ্ট্র কী যুক্তি দেখিয়েছে হস্তক্ষেপের পক্ষে?
ভেনেজুয়েলা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ।
৫. জাতিসংঘ কী সমাধান চায়?
ন্যায়সঙ্গত ও ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

