চলতি সপ্তাহেই ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

Published By: Khabar India Online | Published On:

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও কি যুদ্ধের মেঘ? আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত মিলেছে গালফ অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্যে।

সোমবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই হামলায় ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনও চূড়ান্ত নয় এবং পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ইরানে হামলা হলে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকগুলো নাকি ক্রমেই ‘উত্তপ্ত’ হয়ে উঠছে।

গত মাসের শেষ দিকে ইরান-এ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা কঠোরভাবে দমন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ তুলে তখন থেকেই হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানালেও, দু’দিন পরই ভিন্ন সুরে কথা বলেন।

অনেকে মনে করেন, সেই বক্তব্য ছিল কৌশলগত। আবার কারও মতে, ট্রাম্প তখন সত্যিই সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছিলেন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি বাতিল হয়নি।

এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে সৌদি আরব, কাতারওমান। এই তিন দেশই ইরানে সরাসরি হামলার বিরোধিতা করেছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন জোরালো।

 প্রশ্ন ও উত্তর

১) যুক্তরাষ্ট্র কি নিশ্চিতভাবে ইরানে হামলা চালাবে?
না, এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র বলছে, সম্ভাবনা আছে তবে সময় পরিবর্তন হতে পারে।

২) হামলার মূল লক্ষ্য কী হতে পারে?
ইরানের উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।

৩) ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে কি?
সম্ভাবনা রয়েছে, আর সেটি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

৪) ট্রাম্প কি হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন?
সাময়িকভাবে স্থগিত থাকতে পারে, তবে পুরোপুরি বাতিল হয়নি বলে দাবি সূত্রের।

৫) মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থান কী?
সৌদি আরব, কাতার ও ওমান সরাসরি হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।