হঠাৎ করেই ইরান ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Jerusalem Post–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে যে টানা বিক্ষোভ চলছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকছে না। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর ঘনিষ্ঠ মিত্র Lindsey Graham সম্প্রতি Fox News–এর এক অনুষ্ঠানে ‘Make Iran Great Again’ লেখা ক্যাপ পরে হাজির হন। তিনি বলেন, ২০২৬ সাল ইরানের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের বছর হতে পারে—এমনটাই তিনি আশা করেন।
এর আগের প্রেক্ষাপটে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro–কে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়। জানা গেছে, মাদুরো ইস্যুর আগেই ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন হলে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানি রিয়ালের বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে প্রভাবিত হয়। খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ এখন আন্তর্জাতিক নজরে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার পর কিউবা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো এমনকি ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তৎপরতার আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় একসঙ্গে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. ইরানে বিক্ষোভের মূল কারণ কী?
মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
২. যুক্তরাষ্ট্র কি সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে?
এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।
৩. লিন্ডসে গ্রাহামের মন্তব্য কেন আলোচনায়?
তার ‘Make Iran Great Again’ মন্তব্যকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৪. ইরানি মুদ্রার পতনের পেছনে কী কারণ?
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপই প্রধান কারণ।
৫. এই পরিস্থিতির প্রভাব কোথায় পড়তে পারে?
মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

