লোকসভায় রবিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঠিক ১১টায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করেন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। প্রায় ৮৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে দেন—এই বাজেটের লক্ষ্য ভবিষ্যতের ভারত গড়া।
এবারের বাজেটে সরকারের পাখির চোখ তিনটি বিষয়ের উপর। প্রথমত দেশের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি, দ্বিতীয়ত সাধারণ মানুষের দক্ষতা বাড়ানো এবং তৃতীয়ত সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া। কর ব্যবস্থার সংস্কার থেকে শুরু করে জনকল্যাণ, পরিকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই একগুচ্ছ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভাষণ শেষ হতেই সংসদের টেবিলে পেশ করা হয় বার্ষিক অর্থবিল। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ২০২০ সালে নিজের রেকর্ড গড়া দীর্ঘ ভাষণের তুলনায় এবছরের বাজেট বক্তৃতা ছিল অনেকটাই সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সিদ্ধান্তের দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বাজেট ২০২৬-এ ওষুধ শিল্পকে বিশ্বমানের করতে আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’-এর মাধ্যমে দেশে চিপ উৎপাদনে নতুন গতি আনার কথা বলা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ৭টি হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে জোর দিয়ে তৈরি হবে মেডিক্যাল হাব, ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ এবং জেলায় জেলায় STEM হস্টেল।
করদাতাদের জন্যও রয়েছে স্বস্তির খবর। পুরনো আয়কর রিটার্ন সংশোধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে এবং অনাবাসীদের থেকে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে কর জমার নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে।

