বিমান হামলার আগে অনুমতি নিতে হবেঃ তালেবান

Published By: Khabar India Online | Published On:

খবরইন্ডিয়াঅনলাইন, ওয়েবডেস্কঃ   তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিমান হামলা চালানোর আগে আমেরিকানদের উচিত ছিল এ বিষয়ে আমাদের জানানো। তা না করেই আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই আমাদের বিরুদ্ধে।’
আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আঞ্চলিক শাখা আইএস-কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে তালেবান।

দলটির মুখপাত্র বলেছেন, তালেবানের অনুমতি ছাড়া বা তালেবানকে না জানিয়ে বিমান হামলা চালাতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নানগড়হর প্রদেশে আইএসবিরোধী ড্রোন হামলাকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে দেখছে তালেবান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাতে ওই হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিমান হামলা চালানোর আগে আমেরিকানদের উচিত ছিল এ বিষয়ে আমাদের জানানো। তা না করেই আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই আমাদের বিরুদ্ধে।’

কাবুল বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবারের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে নানগড়হরে আইএস নেতার অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলায় ১৩ আমেরিকান সেনাসহ কমপক্ষে ১৭০ জনকে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আইএস-কে।

যদিও ড্রোন হামলায় দুই নারী ও এক শিশু আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান।

এদিকে কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। তারা জানিয়েছে, এরই মধ্যে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের একটি বাদ দিয়ে বাকি সবগুলোতে গভর্নর ও পুলিশপ্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

তালেবানের মন্ত্রিসভায় নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না জানতে চাইলে মুজাহিদ বলেন, শাসক গোষ্ঠী সে সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনই জানার উপায় নেই।

মুজাহিদ জানান, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অগ্রাধিকার দেবে নতুন সরকার।

আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ খরা চলছে বলে বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এর ওপর চার দশকের যুদ্ধে ভঙ্গুর অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে বিদেশি সহায়তা হারানোর শঙ্কা।

এরই মধ্যে কাবুলে নিজ নিজ দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে প্রায় সব দেশ।

এমন অবস্থায় সেনা প্রত্যাহারের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অটুট রাখতে চায় আফগানিস্তানের নতুন শাসক দল।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তালেবান মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে এবং যারা যারা দেশ ছাড়তে চায়, তাদের নিরাপদে দেশ ছাড়তে দিলেও কেবল এটা সম্ভব হতে পারে।

মুদ্রার দরপতন, খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান। এর ওপর যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের জেরে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

এক বিবৃতিতে শনিবার তালেবান জানায়, ব্যাংকের কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার উত্তোলন করা যাবে কিংবা সর্বোচ্চ ২০ হাজার আফগানকে অর্থ উত্তোলন করতে দেয়া যাবে।

মুজাহিদ জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মুজাহিদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব পালন শুরু করলে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে আসবে।