ঘুম আসার ঠিক আগের মুহূর্তে ফোন হাতে চলে আসে? এই অভ্যাসটি এখন প্রায় সবার মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু জানেন কি, ঘুমের আগে স্মার্টফোন ব্যবহার ধীরে ধীরে আপনার শরীর ও মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে। এটি মস্তিষ্ককে জানায় যে এখনও দিনের আলো রয়েছে। এর ফলে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায় এবং ঘুম আসতে দেরি হয়।
অনেকে ভাবেন মাত্র ১০–২০ মিনিট স্ক্রোল করলে তেমন ক্ষতি নেই। বাস্তবে এই অল্প সময়ই ঘুমের ছন্দ নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। নিয়মিত এমন হলে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
ঘুম কম হলে শুধু ক্লান্তিই নয়, তার প্রভাব পড়ে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, মেজাজ এবং চিন্তাশক্তির উপর। পরের দিন চোখে জ্বালা, মাথাব্যথা, বিরক্তি এবং কাজের প্রতি অনীহাও দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম চলতে থাকলে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে পড়ে। ওজন বৃদ্ধি, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপ বাড়ার মতো সমস্যার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
ভালো ঘুম সুস্থ জীবনের ভিত্তি। তাই রাতের শেষ সময়টুকু স্ক্রিনমুক্ত রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন 1: ঘুমের আগে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার নিরাপদ?
উত্তর: ঘুমানোর অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করা সবচেয়ে ভালো।
প্রশ্ন 2: নাইট মোড ব্যবহার করলে কি সমস্যা কমে?
উত্তর: কিছুটা কমলেও পুরোপুরি ঝুঁকি দূর হয় না।
প্রশ্ন 3: ফোন ছাড়া ঘুম না এলে কী করবেন?
উত্তর: বই পড়া, হালকা গান শোনা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।
প্রশ্ন 4: শিশুদের ক্ষেত্রেও কি এই সমস্যা হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, শিশুদের ক্ষেত্রে প্রভাব আরও বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন 5: নিয়মিত ভালো ঘুমের জন্য কী জরুরি?
উত্তর: নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো, স্ক্রিন এড়িয়ে চলা এবং শান্ত পরিবেশ রাখা।

