চোখে হালকা জ্বালা বা ঝাপসা দৃষ্টি—এই সমস্যাগুলো কি এখন প্রায় নিয়মিত সঙ্গী? প্রতিদিন দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাসই এর নেপথ্যে বড় কারণ হয়ে উঠছে। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য নজরদারি—সব কিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের ওপর চাপও বেড়েছে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন সরাসরি স্থায়ী ক্ষতি না করলেও অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারে একাধিক চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা দৈনন্দিন স্বাচ্ছন্দ্য ও কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো ডিজিটাল আই স্ট্রেন, যাকে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমও বলা হয়। দীর্ঘ সময় ছোট স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পেশি অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে। এর ফল হিসেবে চোখের ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা এমনকি ডাবল ভিশনও হতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো ড্রাই আই। স্ক্রিনের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পলক কম পড়ে, ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়। এর ফলে চোখে শুষ্কতা, লালচেভাব, জ্বালাপোড়া বা বালির মতো অনুভূতি দেখা দেয়।
এছাড়াও স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাতে ফোন ব্যবহার করলে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, যার ফলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় এবং চোখের ক্লান্তি আরও বাড়ে।
সঠিক সময়ে বিরতি নেওয়া, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ এবং ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার কমানো চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. স্মার্টফোন কি স্থায়ীভাবে চোখ নষ্ট করে?
না, তবে অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারে সাময়িক কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা হতে পারে।
২. ডিজিটাল আই স্ট্রেন কেন হয়?
দীর্ঘ সময় একটানা ছোট স্ক্রিনে ফোকাস করার কারণে।
৩. ড্রাই আই কীভাবে হয়?
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় চোখের পলক কম পড়ার ফলে।
৪. নীল আলো চোখের জন্য কতটা ক্ষতিকর?
এটি চোখের ক্লান্তি বাড়ায় এবং ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে।
৫. চোখ সুস্থ রাখতে কী করা উচিত?
নিয়মিত বিরতি, ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা এবং রাতে ফোন কম ব্যবহার করা।


