ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন সাকিব আল হাসান। সারেতে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কের সূত্র ধরেই উঠে এলো তাঁর নিজের মুখে ‘ইচ্ছাকৃত ভুল’-এর স্বীকারোক্তি—যা ভক্তদেরও করেছে বিস্মিত।
২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সারের হয়ে খেলতে গিয়ে সাকিবের বোলিং অ্যাকশন প্রথম প্রশ্নের মুখে পড়ে। লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অ্যাকশন ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হওয়ার পর ইসিবি তাঁকে সব প্রতিযোগিতায় বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করে। নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বোলিং বন্ধ হয়ে যায় তাঁর।
সম্প্রতি ইউটিউব পডকাস্ট ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’-এ সাকিব জানান, অবৈধ অ্যাকশনে বোলিং করার পেছনে ছিল ক্লান্তি আর পরিস্থিতির চাপ। তিনি বলেন, টনটনে সারের হয়ে এক ম্যাচে ৭০ ওভারের বেশি বোলিং করতে হয়েছিল—যা তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি। শারীরিক ক্লান্তির কারণেই অ্যাকশনে ত্রুটি এসেছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
এরপর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় পাস করে অ্যাকশন পরিষ্কার হয় তাঁর। সাকিব বলেন, সারেতে ফিরে অনুশীলনের দুই সেশনেই সব ঠিক হয়ে যায়। তবে চেন্নাইয়ের পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে রাখা হয়নি। বিসিবি জানিয়েছিল, ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি সব ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন।
বর্তমানে টি-টোয়েন্টি লিগ ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টিতে এমআই এমিরেটসের হয়ে খেলছেন সাকিব। অভিষেক ম্যাচে ১২ বলে ১৬ রান করার পর কৌশলগত কারণে তাঁকে রিটায়ার্ড আউট করা হয়—বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে যা একটি বিরল ঘটনা।
১. সাকিবের বোলিং অ্যাকশন কেন অবৈধ ঘোষণা হয়েছিল?
পরীক্ষায় দেখা যায় তাঁর কনুই নির্ধারিত সীমার বাইরে বাঁকছিল, যা আইসিসির নিয়মবিরুদ্ধ।
২. তিনি কি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অ্যাকশনে বোলিং করেছিলেন?
পডকাস্টে সাকিব জানান, অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ক্লান্তির কারণে ‘কিছুটা ইচ্ছা করেই’ ত্রুটিপূর্ণ অ্যাকশন করেছিলেন।
৩. কতবার অ্যাকশন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল তাঁকে?
লাফবরোতে দুবার এবং চেন্নাইয়ে একবার—মোট তিনবার পরীক্ষা দিতে হয়।
৪. কেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে রাখা হয়নি তাঁকে?
চেন্নাই পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে বোলার হিসেবে দলে নেওয়া হয়নি।
৫. বর্তমানে কোন লিগে খেলছেন সাকিব?
তিনি এখন এমআই এমিরেটসের হয়ে ইন্টারন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি লিগে খেলছেন।

