সীমান্তে আবারও যুদ্ধের শব্দ—মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে ঘনাচ্ছে অশান্তির মেঘ। সৌদি আরব ও ইয়েমেন সীমান্তবর্তী হারদামাউত প্রদেশে শুরু হয়েছে তীব্র লড়াই ও সংঘর্ষ।
ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হারদামাউত গত ডিসেম্বরের শুরুতে দখল করে নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্তর্বর্তী পরিষদ (এসটিসি)। শুরু থেকেই সৌদি আরব তাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও গোষ্ঠীটি অবস্থান ধরে রাখে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শুক্রবার হারদামাউতকে মুক্ত করতে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন প্রদেশটির গভর্নর। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় সৌদি বাহিনী।
হারদামাউত সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় এখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্ত অবস্থান সৌদি আরবকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। এর আগেও প্রদেশটির মুকুল্লা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছিল।
এই অঞ্চলটি আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু এসটিসি পুরো দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে হারদামাউত দখল করে। এতে তাদের সহায়তা করছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ইয়েমেন সরকারের কড়া নির্দেশ ও সৌদির সমর্থনের পর আমিরাত সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
এসটিসির স্থানীয় নেতাদের দাবি, সৌদির বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় এসটিসির যোদ্ধারা ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালালে পুরো এলাকায় ভয়াবহ লড়াই শুরু হয়।
ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানান, সামরিক পদক্ষেপের আগে কয়েক সপ্তাহ আলোচনা চললেও এসটিসি কোনো সমঝোতায় রাজি হয়নি। বরং তারা হারদামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
প্রশ্ন ১: হারদামাউতে কেন সংঘর্ষ শুরু হয়েছে?
উত্তর: বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসি প্রদেশটি দখল করে রাখায় ইয়েমেন সরকার ও সৌদি সামরিক অভিযান শুরু করে।
প্রশ্ন ২: সৌদি আরব কেন সরাসরি হামলা চালাল?
উত্তর: আলোচনায় ব্যর্থ হয়ে সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি বিমান হামলা চালায়।
প্রশ্ন ৩: এসটিসি কী চায়?
উত্তর: তারা দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়।
প্রশ্ন ৪: সংঘর্ষে কতজন হতাহত হয়েছে?
উত্তর: এসটিসির দাবি অনুযায়ী অন্তত সাতজন নিহত ও বহু আহত হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: এই সংঘর্ষের প্রভাব কী হতে পারে?
উত্তর: আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং ইয়েমেন সংকট আরও জটিল হতে পারে।

