রেল পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ল চোরাই মোবাইল চক্র

Published By: Khabar India Online | Published On:

হঠাৎ ট্রেন থামা, তারপরই সন্দেহ—আর তাতেই খুলে গেল চোরাই মোবাইল পাচারের এক বড় রহস্য। ওড়িশা থেকে চোরাই ফোন এনে মুর্শিদাবাদে বিক্রির একটি চক্রের হদিশ পেল জিআরপি।

জানা গিয়েছে, ওড়িশার ঝাড়সুগুদার একাধিক মোবাইল চোরের গ্যাংয়ের কাছ থেকে হ্যান্ডসেট কিনে সেগুলি পশ্চিমবঙ্গে এনে বিক্রি করত এই চক্র। উলুবেড়িয়া জিআরপির তল্লাশিতে গ্রেফতার করা হয়েছে নইমুদ্দিন শেখ নামে এক অভিযুক্তকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫৯টি চোরাই মোবাইল ফোন, একাধিক ব্যাটারি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী।

ঘটনাটি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর সকালে। সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস উলুবেড়িয়া স্টেশনে দাঁড়ালে জিআরপি ও আরপিএফের আধিকারিকদের নজরে আসে এক যুবক। ব্যাগ হাতে ট্রেন থেকে নামার সময় তার আচরণে সন্দেহ হয়। ব্যাগ তল্লাশি করতেই মেলে বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন। বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করে, ঝাড়সুগুদা থেকে এই চোরাই মোবাইলগুলি আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সে এই কারবারে যুক্ত। মোবাইলগুলির সফটওয়্যার বদলে সেগুলি মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ ও নিউ ফারাক্কা এলাকায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। সেখানে এই ধরনের ফোনের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছে সে।

তদন্তে রেল পুলিশ জানতে পেরেছে, ঝাড়সুগুদা এলাকায় চোরাই মোবাইল কেনাবেচার একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয়। বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশার বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি যাওয়া ফোন সেখানে জমা হয়। পরে সফটওয়্যার বদলে সেগুলি বিভিন্ন রাজ্যে পাচার করা হয়, যাতে পুলিশ ট্র্যাক করতে না পারে।

রেল পুলিশের অনুমান, এই চোরাই মোবাইলগুলি মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অপরাধী ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে পৌঁছচ্ছে। অপরাধমূলক কাজে এগুলি ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে জেরা করে পুরো নেটওয়ার্কের খোঁজে তদন্ত চলছে।

প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: কোথা থেকে আনা হচ্ছিল চোরাই মোবাইলগুলি?
উত্তর: ওড়িশার ঝাড়সুগুদা এলাকা থেকে।

প্রশ্ন ২: কতগুলি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে?
উত্তর: মোট ৫৯টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৩: কোথায় বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল ফোনগুলি?
উত্তর: মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ ও নিউ ফারাক্কা এলাকায়।

প্রশ্ন ৪: কীভাবে চোরাই মোবাইল ট্র্যাক এড়ানো হতো?
উত্তর: বিক্রির আগে মোবাইলের সফটওয়্যার বদলে দেওয়া হতো।

প্রশ্ন ৫: তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে?
উত্তর: ধৃতকে জেরা করে পুরো চক্র ও ক্রেতাদের খোঁজ চলছে।