কোয়ারেন্টাইন
লোপামুদ্রা কুন্ডু
রিক্সায় চড়ে ফ্যাকাসে ঠাকুরদা বিজনে চলেছে
মাথাটা লটকে, থুতনি ঝুলে
মৃত্যুর আগে ঘুর্ণি হয়ে ঘুরতে ঘুরতে এই শেষ অবশ মাথা দোলানো তার-
লালা ঝরছে, আমার মা সেই লালা
কাচিয়ে মুছে নিচ্ছে বকুল ফুল ভেবে
দোতলায় ওঠার সিঁড়ি দেখলে ভয় করে
তুই ওখানে কী করিস? বাবা চেঁচিয়ে ওঠে,
রোগা রোগা ছাল ওঠা কালচে মুখের ভেতরের মাড়ির মত সিঁড়ি, ধোঁয়া, ঝুল
অন্ধকার বাড়িতে সারাক্ষণ ভূতেরা দাঁত কিড়মিড় করে
আজকাল এসব লিখে নিজেই নিজের মুখোমুখি চুপ করে বসে থাকি।
একটা দুটো এদিকে ওদিকে পাঠাই।
হয়ত ছাপেনা। কখনো আবার ছাপে। ছাপলে, রিক্সায় উঠলে,
কেউ আমাকে নাম ঠিকানা জানতে চাইলেই দেখি
কে একজন বুকের ডাকনাম খুলে তাকায়।
‘এখনো এত লোভ তোর!’
আমার হাতে হলদে লোম, চারপেয়ে জানোয়ারের মত
পেট চিঁড়ে সহজেই বের করে আনবার পুরোনো নখ,
চোখদুটো ইঁটভাটা, খুনখারাপির অভ্যাসে
কার একটা মুন্ডু হাতে ঝুলিয়ে হোহো করে হাসছি।
আমার হা মুখ শিয়াল, লাল পড়ছে
মা পরম যত্নে দু ঠোঁটের পাশে কষ মুছিয়ে দিচ্ছে
কেউ না দেখে ফেলে,
ঠাকুমা, তুমি কোঁচড়ে তুলে ঘুম পাড়াচ্ছ আমাকে বকুল ফুল ভেবে।

