মিডিয়া দুনিয়ায় তুমুল আলোড়ন—ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির মালিকানা ঘিরে এবার লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে। নেটফ্লিক্সের ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিডকে পিছনে ফেলে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স হাজির হয়েছে ১০৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রস্তাব নিয়ে। শুরু হয়েছে নতুন দড়ি-টানাটানি, আর এই লড়াইয়ের নেপথ্যে উঠে আসছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনারের নাম।
গত সপ্তাহে বাজারে গুঞ্জন ছড়ায়, নেটফ্লিক্সই টিভি, ফিল্ম স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং সম্পত্তি নিয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে অধিগ্রহণের দোরগোড়ায়। কিন্তু প্যারামাউন্টের নতুন চাল সব হিসেব ওলট-পালট করে দিল। তাঁদের প্রস্তাবে রয়েছে শেয়ারপ্রতি ৩০ ডলারের নগদ মূল্য, যার পেছনে অর্থ জোগাচ্ছে কুশনারের অ্যাফিনিটি পার্টনার্স, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল এবং এলিসন পরিবার।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, তারা প্যারামাউন্টের প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে। তবে নেটফ্লিক্সের ব্যাপারে পূর্বের সুপারিশ থেকেই সরে আসেনি। অর্থাৎ এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়—বরং আরও আলোচনার ইঙ্গিত মিলছে।
ল্যারি এলিসনের হস্তক্ষেপ নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, নেটফ্লিক্সের চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ট্রাম্পকে ফোন করে জানান যে এটি প্রতিযোগিতায় বড় বাধা তৈরি করবে। অন্যদিকে প্যারামাউন্ট বলছে, তাদের প্রস্তাব শিল্পী, সিনেমাহল এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আরও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে, যা পুরো শিল্পকে শক্তিশালী করবে।
এদিকে নেটফ্লিক্সের কো–সিইও টেড স্যান্ডোস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্যারামাউন্টের এই ‘শত্রুতামূলক’ প্রস্তাব তারা আগেই অনুমান করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের কোনো কর্মী ছাঁটাই হবে না, বরং কাজের সুযোগ বাড়বে।
প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় অঙ্কও ঝুলছে। প্যারামাউন্টকে বেছে নিলে ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে নেটফ্লিক্সকে দিতে হবে ২.৮ বিলিয়ন ডলার ব্রেকআপ ফি। আর যদি নেটফ্লিক্স ব্যর্থ হয়, তবে তাদেরই দিতে হবে ৫.৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা।
মিডিয়া জগতের অন্যতম বৃহত্তম সম্ভাব্য চুক্তি ঘিরে এখন চূড়ান্ত উত্তেজনা। প্যারামাউন্টের দাবি—তাদের অফারেই রয়েছে বেশি নগদ, বেশি নিশ্চয়তা এবং আইনগতভাবে কম বাধা। তাই শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার ব্রাদার্স কোন পক্ষের হাত ধরে নতুন যাত্রা শুরু করবে, সেটাই এখন বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ছে।
1. প্যারামাউন্টের মোট প্রস্তাব কত?
১০৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যা নেটফ্লিক্সের চেয়ে অনেক বড়।
2. নেটফ্লিক্সের মূল প্রস্তাব কী ছিল?
৭২ বিলিয়ন ডলারের ইক্যুইটি চুক্তি।
3. প্যারামাউন্টের প্রস্তাবের পেছনে কে অর্থ দিচ্ছে?
জ্যারেড কুশনারের অ্যাফিনিটি পার্টনার্স, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সভরেন ফান্ড এবং এলিসন পরিবার।
4. ট্রাম্পের ভূমিকা কী?
খবরে দাবি করা হয়েছে, ল্যারি এলিসন নেটফ্লিক্সের ডিল নিয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন।
5. সিদ্ধান্ত কবে হতে পারে?
বোর্ড এখনও মূল্যায়ন পর্যায়ে আছে, তাই দ্রুতই কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম।

