নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন: যে কাজগুলোর জন্য ক্ষমা চাওয়ার দরকার নেই

Published By: Khabar India Online | Published On:

সবসময় কি আপনার মনে হয়, একটু নিজের কথা ভাবলেই ক্ষমা চাওয়া উচিত? এই ভাবনাটাই কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার আত্মসম্মানকে দুর্বল করে দেয়। বিনয় আর আত্মত্যাগের নামে আমরা অনেক সময় এমন বিষয়েও ‘দুঃখিত’ বলি, যেখানে আদৌ তার প্রয়োজন নেই। নিজের সীমা, অনুভূতি ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করা অপরাধ নয়। বরং সেটাই মানসিক সুস্থতার প্রথম শর্ত।

ব্যক্তিগত বিষয়ে সীমারেখা টানলে
নিজের ব্যক্তিগত জীবন সবার জন্য উন্মুক্ত না রাখাটা একেবারেই স্বাভাবিক। আপনি যদি স্পষ্টভাবে নিজের বাউন্ডারি নির্ধারণ করেন, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পরিসর থাকা উচিত, সেটি রক্ষা করা আপনার অধিকার।

অতীতের ভুলের জন্য বারবার নয়
ভুল মানুষের স্বভাব। একবার ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট, তার পর সারাজীবন অনুশোচনায় ভোগার দরকার নেই। অতীত আঁকড়ে ধরে থাকলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই পরিণত মনোভাব।

নিজেকে সময় দিলে
নিজের জন্য সময় নেওয়া মানে স্বার্থপরতা নয়। মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে নিজেকে রিচার্জ করা জরুরি। ব্যস্ততার মাঝেও বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে
কান্না, রাগ বা হতাশা—এই অনুভূতিগুলো মানবিক। এগুলো প্রকাশ করার জন্য ক্ষমা চাওয়া মানে নিজের আবেগকে অস্বীকার করা। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া মানেই নিজেকে ভালোবাসা।

নিজের সিদ্ধান্ত ও পছন্দে অটল থাকলে
চাকরি বদল, একা ভ্রমণ বা জীবনের বড় সিদ্ধান্ত—এসব আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। অন্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী না চললেই ক্ষমা চাইতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। নিজের জীবনের লাগাম নিজের হাতেই রাখুন।

প্রশ্ন ও উত্তর 

প্রশ্ন ১: সবসময় ক্ষমা চাওয়া কি ভালো অভ্যাস?
উত্তর: না, অপ্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়া আত্মসম্মান কমাতে পারে।

প্রশ্ন ২: নিজের জন্য সময় নেওয়া কি স্বার্থপরতা?
উত্তর: একেবারেই না, এটি মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।

প্রশ্ন ৩: অনুভূতি প্রকাশ করলে দুর্বল মনে হয় কি?
উত্তর: না, বরং এটি মানসিক শক্তির পরিচয়।

প্রশ্ন ৪: ব্যক্তিগত বাউন্ডারি কেন জরুরি?
উত্তর: এটি আত্মসম্মান ও সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ৫: নিজের সিদ্ধান্তে অন্যরা খুশি না হলে কী করবেন?
উত্তর: নিজের যুক্তি ও শান্ত মন বজায় রেখে সিদ্ধান্তে অটল থাকুন।