নেপালের রাজনীতিতে হঠাৎই বড় চমক! নতুন সরকারের শপথের ঠিক পরদিনই গ্রেপ্তার করা হলো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি-কে, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে।
শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করে। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত জনবিক্ষোভ। তখন অলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ব্যাপক জেন-জি আন্দোলন শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১৯ জন ছিলেন আন্দোলনকারী। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন কে পি শর্মা অলি। তার আগেই পদ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। পরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তদন্ত কমিশন তৈরি করা হয়।
সেই তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার এই গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সদ্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামেও পরিচিত।
গ্রেপ্তারের পর সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—এটি কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়। বরং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ। সরকারের দাবি, আইনের চোখে সবাই সমান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

