ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেল কি? বারুইপুরের সাগর সংঘ মাঠে শুক্রবারের ‘রণসংকল্প সভা’য় সেই বার্তাই দিলেন Abhishek Banerjee। মিশন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই প্রচারের সূচনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে অভিষেকের কণ্ঠে তীব্র চ্যালেঞ্জ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-এর নাম না করে তিনি বলেন, “এবার গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি বাংলা কী। পরেরবার Mamata Banerjee নিজেই যাবেন।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, বাংলার আত্মসম্মান নিয়ে কোনও আপস হবে না।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া টার্গেট বেঁধে দিয়ে অভিষেক বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও আসনেই যেন জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজারের কম না হয়। একুশের তুলনায় ভোট শতাংশ ও আসন—দুটোই বাড়াতে হবে বলেও নির্দেশ দেন তিনি।
বিজেপিকে আক্রমণ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, “যদি কেউ নিঃশর্তভাবে বাংলার মতো করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দিতে পারে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রাখা ও বিশুদ্ধ পানীয় জল ইস্যুতেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তোপ দাগেন তিনি।
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির দ্বিচারিতা নিয়েও সরব হন অভিষেক। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘মৃত ভোটার’ ইস্যুতে তিনজনকে মঞ্চে ডেকে এনে ব্যঙ্গ করেন—কমিশনের হিসেব অনুযায়ী তাঁরা নাকি ‘ভূত’।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নেতৃত্ব ও যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। সব মিলিয়ে বারুইপুরের সভা থেকেই স্পষ্ট—২০২৬-এর লড়াইয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজেই নামছে তৃণমূল।
প্রশ্ন ও উত্তর
এই সভার মূল উদ্দেশ্য কী?
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের সূচনা ও কর্মীদের টার্গেট ঠিক করা।নির্বাচন কমিশন নিয়ে কী বললেন অভিষেক?
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলার আত্মসম্মান রক্ষার বার্তা দেন।বিজেপির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তোলা হয়েছে?
১০০ দিনের কাজ, পানীয় জল ও সামাজিক প্রকল্প নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগ।লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কী চ্যালেঞ্জ দিলেন?
অন্য রাজ্যে নিঃশর্তভাবে চালু হলে রাজনীতি ছাড়ার চ্যালেঞ্জ।দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কী লক্ষ্য বেঁধে দিলেন?
প্রতিটি আসনে কমপক্ষে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধান।

