ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে শুক্রবারের বিকেল যেন হঠাৎই অন্য মাত্রা পেল। সংবিধান ও ভোটাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় প্রবল সাড়া।
কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা ধর্নামঞ্চে এদিন উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদ। বিকেল প্রায় চারটার সময় মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর বক্তৃতার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনকা গুরুস্বামীকে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানান।
মঞ্চে উঠে মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ভারতের সংবিধান দুটি মূল নীতির কথা বলে—সব নাগরিক সমান এবং প্রত্যেকের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই সংবিধানই দেশের গণতন্ত্রকে একত্রে ধরে রেখেছে।
আইনজীবী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সংবিধান। কারণ এই সংবিধানই নাগরিকদের ভোটাধিকার দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ বাংলার নাগরিক নির্বাচন কমিশনের খাতায় বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া হয়, তবে কীভাবে সেটিকে মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বলা যায়?
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে লড়াই চলছে এবং শীর্ষ আদালতেও মামলা চলছে। তাঁর কথায়, বাংলার প্রতিটি নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষার জন্যই এই লড়াই।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই নিজের ভোট দেবেন। জয় বাংলা। জয় সংবিধান।”
মেনকার বক্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশংসা করে বলেন, তাঁর কথা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী হয়েছে।
শুক্রবারের এই ধর্নামঞ্চে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল বিধায়ক ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক দোলা সেন, সাংসদ জুন মালিয়া-সহ একাধিক নেতৃত্ব ধর্নায় যোগ দেন।
এদিন ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সেইসব ভোটাররাও, যাদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে বা যাদের ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও তৃণমূলপন্থী বিএলও সংগঠনের সদস্যরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মিনাখাঁর রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট মহারাজও এদিন ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

