ঠোঁটের চারপাশে হঠাৎ কালচেভাব দেখে কি চিন্তায় পড়ে গেছেন? অনেকের ক্ষেত্রেই এই দাগ ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। সুখবর হলো, কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিই মাত্র দু’সপ্তাহে এই ছোপ হালকা করতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় মেলাসমা, যা মূলত অতিরিক্ত পিগমেন্টেশনের কারণে তৈরি হয়। বয়স, হরমোনের তারতম্য, অতিবেগুনি রশ্মি কিংবা গর্ভাবস্থার পর ত্বকের পরিবর্তন—সবই এই দাগের বড় কারণ। তবে নিয়মিত যত্ন নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিচে থাকছে ঘরোয়া ৫টি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়—
১. অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
অ্যাসেটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ভিনিগার ত্বকের পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। সমান পরিমাণ জল ও ভিনিগার মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে দাগের জায়গায় লাগান। কয়েক মিনিট রেখে ঈষদুষ্ণ জলেতে ধুয়ে ফেলুন।
২. অ্যালোভেরা জেল
রাতে ঘুমানোর আগে অ্যালোভেরা জেল লাগালে ত্বক শান্ত হয় এবং দাগের মাত্রা কমে। নিয়মিত ব্যবহারেই ফল পাওয়া যায়।
৩. পাতিলেবুর রস
লেবুর অ্যাসিডি উপাদান দাগ হালকা করতে সহায়তা করে। অবশ্যই জল মিশিয়ে ব্যবহার করুন, যাতে ত্বক শুষ্ক বা জ্বালাপোড়ায় না ভোগে।
৪. আলুর রস
আলুর প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট ত্বকের ছোপ তুলতে বিশেষ কার্যকর। সংবেদনশীল ত্বকেও সহজে ব্যবহার করা যায়, কারণ এতে তীব্র অ্যাসিড নেই।
৫. পাকা পেঁপে
পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ ও সি ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। সপ্তাহে ২-৩ দিন লাগালেই দুই সপ্তাহে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়।
নিয়ম করে এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে ঠোঁটের চারপাশের কালচেভাব কমতে শুরু করবে। তবে দাগ যদি দ্রুত বাড়তে থাকে, সেক্ষেত্রে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
১. ঠোঁটের চারপাশে কালচেভাব হওয়ার মূল কারণ কী?
হরমোন পরিবর্তন, সূর্যের রশ্মি, বয়স ও পিগমেন্টেশনের অসামঞ্জস্যই এর প্রধান কারণ।
২. ঘরোয়া উপায়গুলো কতদিন ব্যবহার করলে ফল মিলবে?
নিয়মিত ব্যবহারে প্রায় ২ সপ্তাহের মধ্যে পার্থক্য চোখে পড়ে।
৩. সংবেদনশীল ত্বকে কোন উপায় সবচেয়ে নিরাপদ?
আলুর রস সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ এতে তীব্র অ্যাসিড নেই।
৪. লেবুর রস কি সরাসরি লাগানো উচিত?
না, অবশ্যই জল মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
৫. দাগ না কমলে কী করা উচিত?
তখন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

