লাটভিয়ার রাস্তাঘাট, ক্যাফে কিংবা অফিস—সবখানেই এখন এক অদ্ভুত বাস্তবতার ছাপ। এমন এক দেশে বাস করছে মানুষ, যেখানে পুরুষের অভাব এতটাই প্রকট যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ভাড়াটে স্বামী’ পরিষেবা। এই নতুন প্রবণতাই আজ আলোচনার কেন্দ্রে, কারণ লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা লাটভিয়াকে ঠেলে দিয়েছে এক অচেনা সমস্যার মুখোমুখি।
ইউরোপের গড় অনুপাতের তুলনায় লাটভিয়ায় নারীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি। শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বেও তিন গুণ নারী বয়স্ক পুরুষদের তুলনায়। ফলে অফিস থেকে সামাজিক পরিসর পর্যন্ত—পাত্রের অভাবে বহু নারী পড়ে যাচ্ছেন চরম সমস্যায়। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় সমাধান হয়ে উঠছে ‘অস্থায়ী স্বামী’ বা ‘হ্যান্ডি হাজব্যান্ড’ পরিষেবা।
ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন ঘণ্টা বা দিনের ভিত্তিতে ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে এমন পুরুষ, যারা কাঠের কাজ, বৈদ্যুতিক মেরামত, রং করা, পোষ্য সামলানো থেকে শুরু করে পর্দা লাগানো পর্যন্ত সবকিছুই করে দিচ্ছেন। এমনকি ঘরের দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজনেও তাঁরা ভাড়ায় কাজ করছেন। অনেক নারী এই পরিষেবাকে দেখছেন নিরাপদ ও সুবিধাজনক বিকল্প হিসেবে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, লাটভিয়ার পুরুষসংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে অসংখ্য কারণ—অতিরিক্ত ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনিয়মিত জীবনযাপন—যা পুরুষদের আয়ুষ্কাল দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে নারী–পুরুষের জনসংখ্যাগত ফারাক।
এই প্রবণতা শুধু লাটভিয়া নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘রেন্ট মাই হ্যান্ডি হাজব্যান্ড’ পরিষেবা সেখানে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে, যা একদিকে একাকিত্ব কমাচ্ছে, অন্যদিকে জনসংখ্যাগত সংকটের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
1. কেন লাটভিয়ায় ‘ভাড়ায় স্বামী’ পরিষেবা এত জনপ্রিয়?
পুরুষের ঘাটতি ও নারীর সংখ্যাধিক্য এই পরিষেবার চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।
2. ভাড়াটে স্বামীরা কী ধরনের কাজ করেন?
কাঠের কাজ, মেরামত, রং করা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন, পোষ্য দেখভালসহ দৈনন্দিন কাজ।
3. লাটভিয়ায় পুরুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণ কী?
উচ্চ ধূমপান হার, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কম আয়ুষ্কাল।
4. এই পরিষেবা কি শুধু লাটভিয়াতেই পাওয়া যায়?
না, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও এখন একই ধরনের পরিষেবা চলছে।
5. নারীরা কেন পাত্র না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন?
লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতার কারণে বিবাহযোগ্য বয়সে পুরুষের সংখ্যা অত্যন্ত কম।

