একটি ছবি— আর সেটিই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। খামেনির শেষ ছবি প্রকাশ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও প্রশ্নের ঝড়।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সম্প্রতি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবিত অবস্থার শেষ ছবি প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, ছবিটি তোলা হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে, ঠিক সেই দিন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়।
তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই দৃশ্য। আর মাত্র ২০ মিনিট পরই শুরু হয় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে।
ছবিতে দেখা যায়, একটি কক্ষে শান্তভাবে সোফায় বসে বই পড়ছেন খামেনি। তার পাশে একটি টেবিলে রাখা রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নিহত কমান্ডার কাশেম সোলায়মানির ছবি। একইসঙ্গে শেলফে রয়েছে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ছবিও।
ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনি যে বইটি পড়ছিলেন সেটি ছিল পবিত্র কোরান। পুরো দৃশ্যটি যেন ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতার প্রতিচ্ছবি।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনা করে। এই হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন খামেনি ও ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হন খামেনি। প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি ইরানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।
দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, সংঘাত ও চাপের মধ্যেও ইরানকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

