কাজ চাইতে লজ্জা নেই—সাফ জানালেন কৌশানী মুখার্জি। গ্ল্যামারের ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবের গল্প এবার নিজেই তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের কেরিয়ারে সাফল্য যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে কঠিন সময়ও। এক সাক্ষাৎকারে কৌশানী মুখার্জি জানান, এমন এক সময় ছিল যখন তাঁর কাজের গতি একেবারে থমকে গিয়েছিল। একই সময়ে মাকে হারানোর ব্যক্তিগত শোক তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল ভেতর থেকে।
তিনি বলেন, অনেক অনুষ্ঠান বা জনসমাগমে এমন হয়েছে যেখানে সবাই শুধু বনি সেনগুপ্তর সঙ্গে ছবি তুলতে চাইতেন, তাঁকে কেউ গুরুত্ব দিতেন না। সেই মুহূর্তগুলোতে নিজের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল তাঁর মনে।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই খোলামেলা কৌশানী। বনির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগের একটি ব্যর্থ সম্পর্ক থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনকে আলাদা রেখেছেন। তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রির চাকচিক্য ও অপরিণত সিদ্ধান্ত অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।
কৌশানী আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কাজ চাইতে লজ্জা পান না। কখনও কখনও বনিকে সরাসরি বলেছেন, ভালো কাজ করলে তাঁকে যেন কোথাও সুপারিশ করা হয়। তাঁর কথায়, কাজের জন্য অনুরোধ করা অপমানের নয়, বরং পেশাগত অধিকার।
ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ পাওয়া ও কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যও যথেষ্ট স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, গ্ল্যামার জগত সবসময়ই সহজ টার্গেট। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের সম্মতিতেই হয়। ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ বাস্তবতা অস্বীকার করার কিছু নেই বলেই মত তাঁর।
তবে অবহেলার অভিজ্ঞতাও কম নয়। কৌশানী জানান, অনেক সময় মনে হয়েছে তিনি আরও ভালো কাজ করতে পারতেন, কিন্তু চেনা গণ্ডির বাইরে কাউকে নেওয়ার ঝুঁকি কমই নেয় প্রযোজনা সংস্থাগুলি। তাই এখন অনেক শিল্পী নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করছেন, নিজের জায়গা মজবুত করতেই।
সব মিলিয়ে, কৌশানী মুখার্জির এই খোলামেলা সাক্ষাৎকার আবারও প্রমাণ করল—গ্ল্যামারের আড়ালে লড়াইটা কিন্তু একেবারেই বাস্তব।

