মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কি আবার যুদ্ধের মেঘ? একের পর এক কড়া বার্তায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির হাতামি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতির কারণে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তা শুধু আক্রমণকারীদের নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সামরিক হামলা এড়াতে ইরানকে চুক্তিতে যেতে হবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা কখনোই ধ্বংস করা সম্ভব নয় এবং যেকোনো আক্রমণের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln–এর নেতৃত্বে একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। এর ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
ইরান আগেই সতর্ক করেছে, হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং মিত্রদের—বিশেষ করে ইসরায়েল—লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে Islamic Revolutionary Guard Corps–এর সাম্প্রতিক নৌ মহড়াও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, CENTCOM আইআরজিসিকে সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো অনিরাপদ আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় তেহরান পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে।
এই উত্তেজনার পেছনে ইরানের ভেতরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তার দমন-পীড়নের ঘটনাও বড় ভূমিকা রাখছে। তেহরান এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে, আর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।

