অন্ধকারে ঢাকা এক দেশ, থমকে থাকা ইন্টারনেট—আর তার আড়ালেই চলছে ভয়াবহ রক্তপাত। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (এইচআরএএনএ)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা AFP।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। জানুয়ারির শুরু থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ইরানের প্রায় সব প্রান্তে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। টানা ১৮ দিন ধরে চলা এই ইন্টারনেট শাটডাউনকে নজিরবিহীন বলছেন বিশ্লেষকেরা।
এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা গেছে, যাদের মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি আরও ১৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৪১ হাজারের বেশি মানুষ।
ইরানি সরকার অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি এবং বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা দাঙ্গায় জড়িতদের হাতে নিহত পথচারী।
এদিকে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করায় তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা NetBlocks জানিয়েছে, এখনো ইরানে কার্যত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে, যা প্রকৃত হতাহতের চিত্র আড়াল করে রাখছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. ইরানের বিক্ষোভে কতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে?
মানবাধিকার সংস্থার মতে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬ হাজার।
২. এই তথ্য কে নিশ্চিত করেছে?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Human Rights Activists News Agency এই তথ্য দিয়েছে।
৩. ইন্টারনেট বন্ধ কেন রাখা হয়েছে?
বিক্ষোভ দমন ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
৪. ইরান সরকার কী বলছে?
সরকারের দাবি, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার এবং বেশিরভাগ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
৫. যুক্তরাষ্ট্র কি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে?
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সামরিক হস্তক্ষেপ এখনো একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

