নতুন মোড় নিল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি—Iran Ceasefire Conditions প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। যুদ্ধবিরতির জন্য তেহরান যে শর্তগুলো সামনে এনেছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল ও চাপ।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত থামাতে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা।
এছাড়া ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তগুলো তেহরানের কঠোর কূটনৈতিক অবস্থানকেই তুলে ধরে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং বহু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
এদিকে, যুদ্ধের প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন দেশ চাপে পড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল থেকে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জোরালো হয়।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ইরানের শর্তগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর এই আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে কি না—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।

