আলোচনার আগেই বড় কূটনৈতিক মোড়—অবশেষে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শনিবার এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। আলোচনার আগে এটি ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ হিসেবেই দেখছে তেহরান।
ওই কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আগ্রহী—এমন বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা নরম করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি না করার প্রতিশ্রুতির বিনিময়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাই এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার জানিয়েছিলেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ এবং জব্দ সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না। সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে আছে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তবে সেটি এখনো বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনা সফল হবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল।

