Indus Water Treaty ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে।
পাকিস্তানের জলসম্পদ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা)-র চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মহম্মদ সঈদ অভিযোগ করেছেন, বিতস্তা (ঝিলম) ও চন্দ্রভাগা (চেনাব) নদীর জলে বৃহৎ পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে ভারত। তাঁর দাবি, প্রায় ৬০০০ কোটি ডলারের একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জন্য ‘গুরুতর ঝুঁকি’ হয়ে উঠতে পারে।
সঈদের বক্তব্য, বর্তমানে সিন্ধু ও উপনদীগুলিতে ভারতের জলধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৫ দিন। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে তা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে পৌঁছতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এতে নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। আবার বর্ষাকালে সংরক্ষিত জল ছেড়ে বন্যার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি ইসলামাবাদের।
এই বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত সরকার Indus Water Treaty স্থগিত রাখার ঘোষণা করে। তার পর থেকেই ইসলামাবাদ ধারাবাহিক ভাবে আপত্তি জানিয়ে আসছে।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারে চন্দ্রভাগা নদীর উপর ৫৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি গ্রিনফিল্ড জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্মতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় এই প্রকল্প গড়ে উঠবে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের অধিকার রয়েছে চুক্তি অনুযায়ী, যদিও জলবণ্টনের প্রধান অংশ পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত।
উল্লেখযোগ্য, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের মধ্যে এই জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের তিন নদীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ভারতের, আর পশ্চিমের তিন নদীর জলের মূল ব্যবহার পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। জলই কি এবার কূটনৈতিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দু? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে।

