শিশুদের শেখার চাবিকাঠি মাতৃভাষা, ভারতের জন্য কী বলল ইউনেস্কো?

Published By: Khabar India Online | Published On:

শিশুর শেখার শুরুটা যদি হয় নিজের চেনা ভাষায়, তবে তার ভবিষ্যৎ পথচলাও হয় অনেক মসৃণ— এমনই বার্তা দিল ইউনেস্কো। রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক ‘ইন্ডিয়া এডুকেশন রিপোর্ট’-এ ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

১৬৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মোট ১০টি নির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইউনেস্কোর মতে, একটি শিশু যখন নিজের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করে, তখন তার বোঝার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা অনেক দ্রুত বিকশিত হয়।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ইংরেজি বা অপরিচিত ভাষায় পড়াশোনা করতে গিয়ে বহু শিক্ষার্থী বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। এর ফলেই তৈরি হয় হীনম্মন্যতা, যা ধীরে ধীরে স্কুলছুটের হার বাড়ায়। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গণিতের মতো বিষয়গুলি মাতৃভাষায় শেখানো হলে শিক্ষাভীতি কমে এবং কৌতূহল বাড়ে বলে মত ইউনেস্কোর।

ভারতের মতো বহুভাষিক দেশে মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহক। ইউনেস্কো মনে করে, আঞ্চলিক ভাষাকে শিক্ষার ভিত্তি করলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরা মূল শিক্ষাস্রোতে আরও সহজে যুক্ত হতে পারবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তেও মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর এই প্রতিবেদন সেই নীতিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্ত ভিত্তি দিল। এখন দেখার, এই সুপারিশ বাস্তবে কীভাবে ভারতের ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতিতে প্রতিফলিত হয়।

প্রশ্ন ও উত্তর 

১) ইউনেস্কো কেন মাতৃভাষায় শিক্ষার পক্ষে সওয়াল করেছে?
কারণ মাতৃভাষায় শিক্ষা শিশুর বোঝার ক্ষমতা ও মানসিক বিকাশে সহায়ক।

২) রিপোর্টটির নাম কী?
‘ইন্ডিয়া এডুকেশন রিপোর্ট’।

৩) কোন বিষয়গুলিতে মাতৃভাষার গুরুত্ব বেশি বলা হয়েছে?
বিশেষত বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষায়।

৪) ইংরেজি শিক্ষার বিরোধিতা করেছে কি ইউনেস্কো?
না, বিদেশি ভাষা শেখার প্রয়োজন স্বীকার করলেও ভিত্তি মাতৃভাষায় হওয়া উচিত বলেছে।

৫) এই সুপারিশ কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে?
গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা।