একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথকে ঘিরে ফের উত্তেজনা বাড়ছে—হরমুজ প্রণালি এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আবারও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, Hormuz Strait দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানকে কোনোভাবেই টোল তুলতে দেওয়া হবে না। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর এবং অপরিবর্তিত বলেই জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় মার্কিন প্রতিনিধি দলের বিদায়ের মুহূর্তে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এখানে এমন কোনো পদক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট J. D. Vance-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনায় যোগ দিতে যাত্রা করেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য Hormuz Strait অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে হয়, ফলে এখানে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর ইরান এই প্রণালিতে অবরোধ জারি করে। পরে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর টোল আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় ইরান সরকার।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা Islamic Revolutionary Guard Corps-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে আগাম টোল দিতে হবে। এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধের কথাও জানানো হয়েছে।
আরও জানা গেছে, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল ধার্য করা হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

