হঠাৎ করেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না পেলে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ধাপে ধাপে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আওতায় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেনসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ এবং ব্রিটেন ও নরওয়ে পড়তে পারে। এসব দেশ আগে থেকেই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মুখে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইইউর ভেতরে নজিরবিহীন একটি ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে। ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা এসিআই নামে পরিচিত এই অর্থনৈতিক হাতিয়ার আগে কখনও প্রয়োগ হয়নি। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি টেন্ডারে প্রবেশ সীমিত করা বা সেবা বাণিজ্যে কড়াকড়ি আরোপের সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্পের হুমকির পর ইইউ সভাপতিত্বকারী দেশ সাইপ্রাস জরুরি বৈঠক ডেকেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সমন্বিত ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়ার পক্ষে জোর দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জার্মানি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী নেতারাও একই দাবি তুলেছেন।
তবে সব দেশ এই কঠোর অবস্থানের পক্ষে নয়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুল্কহুমকিকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। ব্রিটেনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিতেও। এরই মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার আভাস মিলছে। সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প কেন শুল্কের হুমকি দিয়েছেন?
উত্তর: গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না পাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই হুমকি।
প্রশ্ন ২: অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট কী?
উত্তর: এটি ইইউর একটি বিশেষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তৃতীয় দেশের চাপ মোকাবিলা করা হয়।
প্রশ্ন ৩: আগে কি এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: না, ইউরোপে এটি কখনও আগে প্রয়োগ হয়নি।
প্রশ্ন ৪: সব ইউরোপীয় দেশ কি পাল্টা ব্যবস্থার পক্ষে?
উত্তর: না, কিছু দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে রয়েছে।
প্রশ্ন ৫: এই উত্তেজনার প্রভাব কোথায় পড়তে পারে?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের বাণিজ্য চুক্তিগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

