নীরবে রান্নাঘরে বসে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার যে কত বড় বিপদের কারণ হতে পারে, তা অনেকেই বুঝে ওঠেন না—যতক্ষণ না ঘটে যায় দুর্ঘটনা। নগর জীবনে এলপিজি সিলিন্ডার অপরিহার্য হলেও এর বয়স, অবস্থা ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে সচেতনতা এখনও আশঙ্কাজনকভাবে কম।
বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার। প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার নির্দিষ্ট সময় পরপর নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়, যাকে বলা হয় হাইড্রোস্ট্যাটিক টেস্ট। সিলিন্ডারের গায়ে লেখা কোড—যেমন A-25 বা B-26—থেকে বোঝা যায় কোন ত্রৈমাসিকে এবং কোন বছরে পরীক্ষা হয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে সেই সিলিন্ডার ব্যবহার করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
রঙও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের উজ্জ্বল রঙের উদ্দেশ্য শুধু ব্র্যান্ড নয়, বরং লিক বা ক্ষয় সহজে চোখে পড়া। রঙ ফ্যাকাসে হয়ে গেলে, খোসা উঠলে বা মরিচা ধরলে বুঝতে হবে ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
আরেকটি অবহেলিত বিষয় হলো সিল ও ভালভ। সিল ভাঙা, ঢিলা বা আগেই খোলা থাকলে সেই সিলিন্ডার গ্রহণ না করাই নিরাপদ। ভালভে ফাটল, তেলচিটে ভাব বা গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
অনেকে মনে করেন, গ্যাস ঠিকঠাক জ্বললেই সিলিন্ডার নিরাপদ। বাস্তবে চাপ, অতিরিক্ত তাপ বা বায়ু চলাচল কম থাকলে পুরোনো সিলিন্ডার যেকোনো সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই সচেতনতা আর সামান্য সতর্কতাই পারে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে।

