ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নজরদারি—আর এবার সেই নজরদারিতে বড়সড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন।
ভোটের দু’দিন আগে থেকেই প্রতিটি বুথে ক্যামেরা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই ক্যামেরা বন্ধ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। এই নতুন নিয়ম ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় আগে ৩২৮৯টি বুথ থাকলেও ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রায় ৩৫০টি নতুন বুথ যোগ হতে চলেছে। ফলে গোটা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে প্রশাসনের উপর।
এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৫ হাজার ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কর্মীসংখ্যা কম থাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে কর্মী নিয়ে এই ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাজে না লাগানোর নির্দেশ থাকায় চাপ আরও বেড়েছে।
বিশেষভাবে নজরে রয়েছে মহিলা পরিচালিত বুথগুলি। এইসব বুথে প্রিসাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার—সকলেই মহিলা হন। তাদের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিশ্রামের সময় ক্যামেরার সামনে কাপড় দিয়ে আড়াল করা যেতে পারে।
ভোটের আগের দিন বিকেল থেকেই কর্মীরা বুথে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। ভোটার তালিকা যাচাই থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রস্তুতি চলতে থাকে রাত পর্যন্ত। এরপর সেখানেই বিশ্রাম নেন তাঁরা। ফলে ক্যামেরা চালু থাকলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, বুথের ভিতর ও বাইরে লাগানো ক্যামেরাগুলি থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ভিডিও ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবে রানিবাঁধ এলাকার সাতটি বুথে ইন্টারনেট না থাকায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও বিস্তারিত নির্দেশিকা আসতে পারে বলে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। সেই নির্দেশ এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।

