উত্তাল হয়ে উঠল যুক্তরাষ্ট্র—রাস্তায় নেমে পড়লেন লাখো মানুষ, একটাই স্লোগান: “নো কিংস”। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এই গণবিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। “নো কিংস” নামে পরিচিত এই আন্দোলন এখন দেশজুড়ে এক বড় গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে এবারের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেশি, যা ট্রাম্পের প্রতি জনঅসন্তোষের মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তিনি বিচারবিভাগ ও প্রশাসনের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন—যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এই আন্দোলনের মূল বার্তা স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজতন্ত্রের জায়গা নেই। নাগরিকরা মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় একক আধিপত্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই হওয়া উচিত প্রধান ভিত্তি।
এছাড়াও ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত নীতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গণহারে প্রবাসীদের আটক ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ এবং পরিবেশ বিষয়ক নীতিতে কঠোর অবস্থান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জনমতের এই প্রবল চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

