হঠাৎই আইনি মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে Delhi High Court। স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর স্বেচ্ছায় আলাদা থাকলে কি শ্বশুরবাড়িতে ফেরার অধিকার দাবি করা যায়? সাম্প্রতিক এক মামলায় এই প্রশ্নেরই গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দিল আদালত।
৮১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে দাবি করেন, তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এতে তিনি কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে মামলাটি গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়।
তবে মামলাকারীর দাবির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট মহিলা ২০২৩ সালের এপ্রিলে স্বেচ্ছায় এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করেন। ফলে সেই বাড়িকে ‘শেয়ারড হাউসহোল্ড’ হিসেবে গণ্য করার প্রশ্নে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
আদালত আরও জানায়, ওই বিকল্প ঠিকানায় তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। এমনকি নিজের নামে ফলকও লাগিয়েছিলেন। বিচারপতির মতে, সাময়িক থাকার ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ সাধারণত নেওয়া হয় না। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও ইঙ্গিত দেয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নতুন বাসস্থান বেছে নিয়েছিলেন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে আদালত জানায়, বর্তমান ঠিকানা ও শ্বশুরবাড়ির মান প্রায় সমমানের। ফলে আশ্রয়হীনতার যুক্তি কতটা প্রযোজ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই রায় ভবিষ্যতে ‘শেয়ারড হাউসহোল্ড’ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

