দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে আবারও বাংলা নিয়ে সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাজধানীতে নির্বাচন সদনের সামনে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি—কেন বারবার টার্গেট করা হচ্ছে বাংলা? কেনই বা ভোটার তালিকা নিয়ে এত অনিয়ম?
বিকেল চারটে নাগাদ নির্বাচন সদনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি এবং এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত দলের কয়েকজন সদস্য। প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এমন নির্বাচন কমিশন তিনি আগে কখনও দেখেননি। তাঁর কথায়, “আমি চারবারের মন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ছিলাম। কিন্তু এমন উদ্ধত, মিথ্যেবাদী আচরণ কখনও দেখিনি।” চেয়ারকে তিনি সম্মান করেন বলেও উল্লেখ করেন, তবে স্পষ্ট জানান—কোনও চেয়ারই চিরস্থায়ী নয়।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বড় অভিযোগ, প্রথম ধাক্কাতেই প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। গণতন্ত্রের উৎসব হিসেবে নির্বাচনকে তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন—এইভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে?
এসআইআর এবং তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়েও ফের সরব হন মমতা। তিনি বোঝান, বাংলায় পদবীর ব্যবহার অন্যান্য রাজ্যের থেকে আলাদা। নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইংরেজিতে ‘মমতা ব্যানার্জি’ হলেও বাংলায় তা ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’। চ্যাটার্জি ও চট্টোপাধ্যায়—এই ধরনের পার্থক্যের কারণেই বহু নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
দিল্লিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশ্ন—কেন টার্গেট বাংলা—এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

