রান্নার শেষে একটু ধনিয়া পাতা ছড়িয়ে দিলেই যেন খাবারের স্বাদ ও গন্ধ দুটোই বদলে যায়। কিন্তু শুধু স্বাদ বাড়ানো নয়, এই ছোট্ট সবুজ পাতার মধ্যে লুকিয়ে আছে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা, যা অনেকেই জানেন না।
শীতের মৌসুমে সালাদ থেকে শুরু করে তরকারি—প্রায় সব ধরনের খাবারেই ধনিয়া পাতার ব্যবহার চোখে পড়ে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ধনিয়া পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
প্রতি মাত্র ৪ গ্রাম ধনিয়া পাতায় ক্যালোরি খুবই কম, অথচ এতে রয়েছে ফাইবার, সামান্য প্রোটিন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। বিশেষ করে ভিটামিন এ, সি ও কে এই পাতাকে আরও উপকারী করে তোলে। পাশাপাশি এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যারোটিনয়েড শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, ধনিয়া পাতায় থাকা কিছু এনজাইম রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। যদিও মানুষের ওপর আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে ভূমিকা
ধনিয়া পাতায় লুটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে আলঝাইমার বা পার্কিনসনের ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য
এই পাতায় থাকা ডোডেকানাল নামের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান সালমোনেলার মতো জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় ধনিয়া পাতা শরীরের প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে সহায়ক। কিছু গবেষণায় মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতেও ধনিয়া পাতার নির্যাসের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অল্প পরিমাণে ধনিয়া পাতা যোগ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. প্রতিদিন ধনিয়া পাতা খাওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, স্বাভাবিক পরিমাণে প্রতিদিন খাওয়া নিরাপদ।
২. ডায়াবেটিস রোগীরা কি ধনিয়া পাতা খেতে পারেন?
হ্যাঁ, তবে নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৩. কাঁচা ধনিয়া পাতা খাওয়া ভালো নাকি রান্না করা?
দুটোই উপকারী, তবে কাঁচা পাতায় পুষ্টিগুণ বেশি থাকে।
৪. ধনিয়া পাতা কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?
কম ক্যালোরি ও ফাইবার থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
৫. বেশি ধনিয়া পাতা খেলে কোনো সমস্যা হয় কি?
অতিরিক্ত খেলে অ্যালার্জি বা পেটের সমস্যা হতে পারে।

