হঠাৎ করেই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন। সাত বছর আগে জানুয়ারি মাসে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন মৌসম বেনজির নুর। ঠিক সেই জানুয়ারি মাসেই ফের নিজের পুরনো রাজনৈতিক ঘরে ফিরলেন তিনি। শনিবার দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডে কংগ্রেস দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে যোগ দেন মৌসম।
এই যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। সাংবাদিক বৈঠকে ইশা খান চৌধুরী জানান, মৌসমের রক্তে কংগ্রেস রয়েছে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে পারিবারিক বিভাজনেরও অবসান হল।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন মৌসম। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেবেন। সোমবার রাজ্যসভার স্পিকারের দফতরে সেই চিঠি জমা দেওয়ার কথা তাঁর। যদিও রাজ্যসভায় তাঁর মেয়াদ আর কয়েক মাস বাকি ছিল, তার আগেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মৌসম বলেন, তিনি বরকত গণিখান চৌধুরীর পরিবারের সদস্য এবং পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখেই কংগ্রেসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূল নিয়ে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি তিনি। বরং জানান, তৃণমূল তাঁকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে এবং রাজ্যসভার সাংসদ ও জেলা সভাপতির দায়িত্বও দিয়েছিল। কংগ্রেস দফতরের সাংবাদিক বৈঠকেও মমতাকে তিনি ‘আমাদের নেত্রী’ বলেই উল্লেখ করেন।
এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক মহল।
প্রশ্ন ও উত্তর
মৌসম বেনজির নুর কবে কংগ্রেসে যোগ দিলেন?
শনিবার তিনি দিল্লিতে কংগ্রেস দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।তিনি কি রাজ্যসভা সাংসদ পদ ছাড়ছেন?
হ্যাঁ, তিনি রাজ্যসভা সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।মৌসম আগে কোন দলে ছিলেন?
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।তৃণমূল সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য কী?
তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি।এই প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক গুরুত্ব কী?
এটি রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

