আপনার শিশুর এই অভ্যাসগুলো দেখে দুশ্চিন্তা করছেন? জেনে নিন সত্যিটা

Published By: Khabar India Online | Published On:

হঠাৎ করে শিশুর কোনো আচরণ চোখে পড়লেই বাবা-মায়ের মনে প্রশ্ন জাগে—সব ঠিক তো? তথ্যের ভিড়ে আজকাল ছোট ছোট অভ্যাসও অনেক সময় বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনেক আচরণ আছে যেগুলো দেখলে অস্বাভাবিক মনে হলেও আসলে তা একেবারেই স্বাভাবিক।

নিজের সঙ্গে কথা বলা
খেলার সময় শিশুকে নিজের সঙ্গে কথা বলতে বা কল্পনার বন্ধুর সঙ্গে গল্প করতে দেখা খুব সাধারণ বিষয়। এটি একাকীত্ব নয়, বরং চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নেওয়া ও কল্পনাশক্তি বিকাশের স্বাভাবিক অংশ।

হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তন
এক মুহূর্তে হাসি, পরের মুহূর্তেই কান্না—শিশুদের ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক। ক্ষুধা, ক্লান্তি বা সামান্য হতাশাও এমন পরিবর্তনের কারণ হতে পারে, কারণ তখনও তাদের মস্তিষ্ক আবেগ নিয়ন্ত্রণ শিখছে।

মাঝে মাঝে একা থাকতে চাওয়া
অনেক শিশু একা খেলতে ভালোবাসে। এটি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা গড়ে ওঠার একটি লক্ষণ। তবে সবসময়ই যদি আলাদা থাকতে চায়, তখন খেয়াল রাখা দরকার।

একই প্রশ্ন বা গল্প বারবার বলা
শিশুরা শিখতে ভালোবাসে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে। একই প্রশ্ন বারবার করা তাদের স্মৃতিশক্তি ও নিরাপত্তাবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

খাবার বেছে খাওয়া
খাবার নিয়ে নাক সিটকানো শিশুর স্বাভাবিক অভ্যাস। স্বাদ ও গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণেই এমনটা হয়। যতক্ষণ শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে, ততক্ষণ চিন্তার প্রয়োজন নেই।

সব মিলিয়ে, প্রতিটি শিশুই আলাদা। ছোটখাটো এই আচরণগুলোকে ভয় না পেয়ে ধৈর্য ধরে বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: শিশুর নিজের সঙ্গে কথা বলা কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ?
উত্তর: না, এটি চিন্তাভাবনা ও ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর স্বাভাবিক উপায়।

প্রশ্ন ২: হঠাৎ রাগ বা কান্না কি স্বাভাবিক?
উত্তর: হ্যাঁ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখার সময় এমনটা হয়।

প্রশ্ন ৩: একা খেলতে চাওয়া কি খারাপ লক্ষণ?
উত্তর: না, এটি সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

প্রশ্ন ৪: বারবার একই প্রশ্ন করলে কী করা উচিত?
উত্তর: ধৈর্য ধরে উত্তর দিন, এতে শিশুর শেখা সহজ হয়।

প্রশ্ন ৫: খাবার বেছে খেলে কি ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার?
উত্তর: শিশু সুস্থভাবে বেড়ে উঠলে সাধারণত প্রয়োজন নেই।